Published : 18 Mar 2026, 11:06 PM
চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার জে পি সনেট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা বেতন না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন। প্রায় তিন মাস ধরে তাঁদের বেতন বকেয়া ছিল। মালিকপক্ষ শ্রমিকদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও বেতন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে, শ্রমিকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এগিয়ে আসে। আজ বুধবার, কারখানা কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার বকেয়া মজুরি পরিশোধ করতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল নগরের বায়েজিদ এলাকায়। আজ ভোরে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করার জন্য কারখানার যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হয়। এই সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কারখানা মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, শ্রমিকদের পাওনার মধ্যে ১ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসন জানায়, গত শনিবার শ্রমিকেরা বেতন-ভাতার দাবিতে কারখানায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর গত সোমবার জেলা প্রশাসন, মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিল্প পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মালিকপক্ষ যন্ত্রপাতি বিক্রির মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয়। আজ ভোরে সেই অনুযায়ী যন্ত্রপাতি বিক্রি করে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘কারখানাটির আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না এবং বকেয়া পরিশোধের মতো সামর্থ্য ছিল না। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা যন্ত্রপাতি ও কারখানার অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি করার ব্যবস্থা করি। প্রথমে ক্রেতা কিছুটা দ্বিধা দেখালেও ডিসি স্যারের কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি রাজি হন।
রাত ১২টার দিকে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয় এবং ভোর ৬টায় সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়।’ কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি সজীব দাস বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন উপায়ে টাকা জোগাড় করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করতে যন্ত্রপাতি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা হওয়ায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে কারখানায় সার্বক্ষণিক মোতায়েন করা হয়। ঈদের আগে শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া এবং তাঁদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে আমরা যন্ত্রপাতি বিক্রি করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি।’।